ধর্ষণ মামলা তুলতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ঠাকুরগাঁও সদরে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার ঠাকুরগাঁও অনলাইন জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী ওই গৃহবধূ। গত ২৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের মোলানখুড়ি গ্রামের বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে ওই গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, রাত দেড়টার দিকে স্থানীয় জামাল উদ্দীন, রবিন চন্দ্র রায়, মানিক, লিয়াকত আলী, হামিদুর, আবদুল গফুর ও আবদুর রশিদ তাকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে সেনুয়া নদীর পাড়ে একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর সেখান থেকে আরও এক কিলোমিটার উত্তরে একটি জমিতে নিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে আবার ধর্ষণ করে তারা। এ সময় তিনি চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। পরদিন সকালে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে বলে তিনি জানান। ওই ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় মোলানখুড়ি গ্রামের জামাল উদ্দীন (৪৫), রবিন চন্দ্র রায় (৩৭), মানিক (৩২), লিয়াকত আলী (৩৮), হামিদুর রহমান (৩০), আবদুল গফুর (৩৫), আবদুর রশিদসহ (৩৯) সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পুলিশ রবিন চন্দ্র রায় ও আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করলেও মূল আসামি জামাল উদ্দীনসহ অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া মূল আসামিসহ অন্য আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মো. কফিল উদ্দীন বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছি। আশা করি খুব শীঘ্রই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারব। বাদিকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাদী থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।